শিশুদের পুরস্কার ও শাস্তির মাধ্যমে নৈতিকতা শেখানো এবং সরকারি কর্মচারীরা শাস্তির ভয়ে নীতি মানার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইমানুয়েল কান্টের নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কাজের নৈতিকতা তার উদ্দেশ্য ও নীতির উপর নির্ভরশীল, ফলাফলের উপর নয়। পুরস্কার ও শাস্তি যদি একমাত্র প্রেরণা হয়, তবে তা সত্যিকারের নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারে না।

ইউপিএসসি নৈতিকতা সিরিজে নন্দিতেশ নিলয় আলোচনা করেছেন যে, পুরস্কার বা শাস্তির জন্য সঠিক কাজ করা কি সত্যিকারের নৈতিকতা? কান্টের দার্শনিক তত্ত্ব অনুসারে, কোনো কাজ নৈতিক হয় যদি তা সঠিক নীতির ভিত্তিতে করা হয়, না যে তা শুধুমাত্র পুরস্কার পাওয়ার জন্য করা হয়।

শিশু যখন সত্য বলার জন্য পুরস্কার পায়, তখন তারা সত্যের মূল্য নয়, পুরস্কারের মূল্য শিখে। একইভাবে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি শুধুমাত্র ক্যামেরা ও নজরদারির ভয়ে লঞ্চ না গ্রহণ করে, তবে তার নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ থাকে। নৈতিকতা তখনই শক্তিশালী হয় যখন কাজের নিজস্ব মূল্য থাকে, যা অন্যদের সন্মান ও ন্যায়বিচারকে উৎসাহিত করে।

কান্টের ক্যাটেগোরিকাল ইম্পেরেটিভ অনুসারে, আমাদের কাজের নীতি এমন হওয়া উচিত যে তা সর্বজনীনভাবে প্রয়োগযোগ্য হয়। তাই, পুরস্কার ও শাস্তি নৈতিক আচরণের সহায়ক হতে পারে, তবে সেগুলোকে একমাত্র প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়; কাজটি সঠিক কারণেই করা উচিত, পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়।