আমদানি বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রবৃদ্ধি কমে ১.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকের ২.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ব্যুরোর (BEA) রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এই ধীরগতির প্রধান কারণ। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধি এবং তেলের দামের অস্থিরতা একটি 'সাপ্লাই শক' তৈরি করেছে। একদিকে যেমন আমদানির পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে রপ্তানি সেই তুলনায় যথেষ্ট নয়। এছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদাররাও এখন চীন বা সৌদি আরবের মতো বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নির্ভর করছে স্থিতিশীল বাণিজ্য নীতি এবং ব্যাপক ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ওপর। বর্তমানে একটি 'K-শেপড' অর্থনীতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে উচ্চবিত্তরা খরচ চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু নিম্নবিত্ত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।