হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে কাতারের মতো প্রধান উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান এবং নাইজেরিয়ার মতো বিকল্প দেশগুলি থেকে আমদানি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভারতের এলএনজি আমদানি গত বছরের তুলনায় ১৫.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী কাতার থেকে আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলার মতো বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে আমদানি বাড়িয়ে ভারত এই ঘাটতি সফলভাবে পূরণ করেছে। মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে দেশের এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৭.০৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে-জুলাই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের এলএনজি আমদানি বার্ষিক ভিত্তিতে ২৫২.৮% বৃদ্ধি পেয়ে ২.১৯ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতকে সবচেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে, ওমান থেকে আমদানি ৩৪০.৯% বৃদ্ধি পেয়ে ১.২২ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলা থেকেও আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কাতার থেকে ৯১.৩% আমদানি হ্রাসের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছে।

সার, বিদ্যুৎ এবং সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির চাহিদা মেটাতে ভারত চড়া দামের মধ্যেও সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে আগামী দিনে এলএনজি-র দাম আরও বাড়তে পারে, যা কিছু মূল্য-সংবেদনশীল খাতকে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করতে পারে।