রাজ্য সরকারগুলিকে খনিজ সম্পদের ওপর কর বা সেস আরোপ করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে একটি নতুন খনি সংশোধনী আইন পাশ হয়েছে। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের মতো খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলি এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করছে, কারণ এতে তাদের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজ্যসভায় সম্প্রতি খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের একটি সংশোধনী পাশ করা হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকারগুলি খনিজ পদার্থ, খনিজবাহী জমি বা খনি অপারেশনের ওপর কোনো কর বা সেস ধার্য করতে পারবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো খনি খাতের আর্থিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা এবং বিভিন্ন রাজ্যে খনিজ পণ্যের দামের বৈষম্য দূর করা।
তবে এই পদক্ষেপটি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং কেরলের মতো রাজ্যগুলির মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ওড়িশার বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়েক এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অভিযোগ করেছেন যে, এই আইনটি রাজ্যগুলির সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে খর্ব করছে। তাদের মতে, খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব রাজ্যগুলির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এই আইনের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, এই আইনের উদ্দেশ্য কোনো রাজ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়, বরং খনিজ পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সারা দেশে একটি সমতা বজায় রাখা। তিনি আরও জানান যে, এই আইনটি শুধুমাত্র কিছু প্রধান খনিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, ক্ষুদ্র খনিজ সম্পদের ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।