বিদেশ থেকে পরিচালিত 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' বা ভুয়ো ডিজিটাল গ্রেপ্তারের প্রতারণা ভারতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্ট কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট "ডিজিটাল অ্যারেস্ট" বা ভুয়ো ডিজিটাল গ্রেপ্তারের ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। যদিও ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী এই সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও আদালত সতর্কবার্তা জারি রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে (RBI) নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির (মিউল অ্যাকাউন্ট) লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে। এছাড়া রাজ্যগুলিকে সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতারকরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে কাজ করছে। তারা নিজেদের আসল পরিচয় লুকাতে সিম বক্স (SIM boxes) ব্যবহার করছে এবং ভিডিও কলে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে প্রবীণ নাগরিকদের প্রতারিত হওয়ার হার কিছুটা কমলেও, তরুণেরা এখনও এর শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রতারণা চক্রগুলির বেশিরভাগই পরিচালিত হচ্ছে মায়ানমার, কম্বোডিয়া এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের মতো বিদেশি ভূখণ্ড থেকে।
প্রতারকদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তি দেওয়ার হার অত্যন্ত কম হওয়ায় এই চক্রগুলি আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলিকে ধ্বংস করতে ভারতকে এখন কূটনৈতিক স্তরে উদ্যোগী হতে হবে। চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আসিয়ান (ASEAN)-এর সাথে সমন্বয় রেখে মায়ানমার ও কম্বোডিয়া সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা এই ধরনের সাইবার অপরাধের আস্তানাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।