বেকারত্ব দূর করতে হলে কেবল শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো সংস্কার করা প্রয়োজন। নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান এবং উপার্জনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের জন্য কেবল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা প্রয়োজন। চীন এবং ভারত—উভয় দেশেরই বিপুল জনসংখ্যার জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। গত ৩০ বছরে চীনের মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর সাফল্যের প্রতিফলন।

বর্তমানে ভারত একদিকে ব্যবসার সুবিধার (ease of doing business) ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এআই-এর ব্যাপক ব্যবহার মানুষের কর্মসংস্থান আরও কমিয়ে দিতে পারে। ভারতের মতো বিশাল যুবশক্তির দেশে জিডিপি বৃদ্ধির সাথে কর্মসংস্থানের হার বা 'এমপ্লয়মেন্ট ইলাস্টিসিটি' বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

চীনের উদাহরণ থেকে দেখা যায়, তারা এআই প্রযুক্তিতে উন্নত হলেও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়। চীনের আদালতগুলি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামাজিক দায়িত্ব এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পুঁজিবাদের চেয়ে শ্রমিকদের অধিকার এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।