চ্যারিটি 'স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার'-এর জন্য আয়োজিত রিয়েলিটি শো 'সেলিব্রিটি হান্টেড'-এর একটি বিশৃঙ্খল অথচ আকর্ষণীয় পর্যালোচনা। বিখ্যাত ব্যক্তিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার এই লড়াই যেমন হাস্যরসে ভরপুর, তেমনি এর শেষে ক্যান্সারের যোদ্ধাদের জীবন কাহিনী দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তোলে।

চ্যারিটি 'স্ট্যান্ড আপ টু ক্যান্সার'-এর সহায়তায় প্রতি বছর আগস্ট মাসে আয়োজিত হয় 'সেলিব্রিটি হান্টেড'। এই শো-তে এক ডজন বিখ্যাত তারকাকে দুই সপ্তাহ ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে হয়। প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রায়ান কনলি ও তাঁর মেয়ে লুসি, স্কারলেট ও স্টুয়ার্ট ডগলাস এবং কমেডিয়ান জেন ব্রিস্টার ও লরা স্মিথ। প্রতিযোগীদের পরিকল্পনা এবং শিকারিদের কৌশল নিয়ে শো-টি এক চরম বিশৃঙ্খল ও মজার অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

হান্টার সদর দপ্তরে প্রাক্তন পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা একটি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির দল পরিচালনা করেন, যারা অপরাধীদের ধরার জন্য অ্যানালিস্ট এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করেন। তবে মজার বিষয় হলো, অনেক সময় দেখা যায় যে বিখ্যাত ব্যক্তিরা অত্যন্ত সহজ কৌশলে শিকারিদের ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, কেউ বা পরিচিত ফোন ব্যবহার করছেন, আবার কেউ জনসমক্ষে লুকিয়ে থাকছেন। এই অদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে মনে হয় যে, যদি এই সাধারণ কৌশলগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে!

শোটির একটি বিশেষ দিক হলো এর সমাপ্তি। প্রতিটি পর্বের শেষে ক্যান্সার আক্রান্ত বা ক্যান্সার জয়ী ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়। এই গল্পগুলো অত্যন্ত মার্জিত এবং আবেগঘনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। বিনোদনের আড়ালে এই মানবিক আবেদনই শোটিকে অনন্য করে তুলেছে।