নাগার্জুনসাগর ছাড়া তেলেঙ্গানার কৃষ্ণা ও গোদাবরী অববাহিকার কোনো প্রধান জলাশয়েই এখনও পর্যন্ত ন্যূনতম ৫ টিএমসি ফুট জল আসেনি। এল নিনোর প্রভাবে রাজ্যজুড়ে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তেলেঙ্গানার ৬২১টি মণ্ডলের মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ (৪৫৭টি মণ্ডল) বর্তমানে খরা পরিস্থিতির মুখোমুখি। এল নিনোর প্রভাবে কেবল তেলেঙ্গানাতেই নয়, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর অববাহিকা অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের খরিফ চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছোট-বড় সমস্ত জলাশয়ের জলস্তর তলানিতে এসে ঠেকেছে।
চলতি বর্ষা মরসুমে কম বৃষ্টিপাতের কারণে ৩৯৯টি মণ্ডলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম এবং ৫৮টি মণ্ডলে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গোদাবরী ও কৃষ্ণা অববাহিকার অধিকাংশ সেচ প্রকল্পেই গত দুই মাসে ন্যূনতম ৫ টিএমসি ফুট জলও আসেনি। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষ্ণার উপরিভাগের আলমাট্টি ও নারায়ণপুর বাঁধের জল ছাড়ার প্রক্রিয়া, যার ফলে তেলেঙ্গানার জুরালা প্রকল্প জল পেতে শুরু করেছে।
জলাশয়গুলিতে জল কম থাকায় রাজ্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জুরালা ও শ্রীশৈলম প্রকল্পে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাসের শেষের দিকে জুরালা প্রকল্পে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যেতে পারে, তবে শ্রীশৈলম প্রকল্পের স্বাভাবিক হতে এখনও দীর্ঘ সময় লাগবে।