ন্যাচারাল ডাই প্রসেসিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (NDPIC) সিন্থেটিক রঙের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান থেকে পচনশীল বা বায়োডিগ্রেডেবল পেইন্ট এবং রঙ তৈরি করছে। এটি উৎসবের মরসুমে পরিবেশ দূষণ এবং মানব স্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সিন্থেটিক বা রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক রঙের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে হায়দরাবাদের প্রফেসর জয়শঙ্কর তেলেঙ্গানা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (PJTAU) অধীনে দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ন্যাচারাল ডাই প্রসেসিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার' (NDPIC) কাজ শুরু করেছে। তেলেঙ্গানা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় এখানে দৈনিক দুই টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ প্রাকৃতিক রঙের পেইন্ট প্রস্তুতকারী ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

এই কেন্দ্রে মাটির গণেশ মূর্তির জন্য পরিবেশবান্ধব 'ইকো-পেইন্ট' এবং উৎসবের জন্য 'ইকো-হোলি' আবির তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণত মূর্তিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক রঙে পারদ, ক্যাডমিয়াম এবং সিসার মতো ভারী ধাতু থাকে, যা জলাশয়ে বিসর্জনের পর জলজ পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। এই প্রাকৃতিক রঙ ও আবির ব্যবহারের ফলে উৎসবের আনন্দ ও ভক্তি বজায় রেখেও পরিবেশের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া, এই কেন্দ্রটি স্থানীয় তাঁতি এবং কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও নতুন পণ্য তৈরির সুযোগ দিচ্ছে।