শ্রী বৈষ্ণব ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আচার্য স্বামী বেদান্ত দেশিকা এবং ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড়ের মধ্যেকার গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা এখানে বর্ণিত হয়েছে। গরুড় যেভাবে বিষ্ণুকে বহন করেন, দেশিকাও তেমনি বেদের জ্ঞান বহন করে মানুষকে মুক্তি দেন।
শ্রী নবলপক্কম বাসুদেবচারিয়ার একটি আলোচনার মাধ্যমে ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড় এবং শ্রী বৈষ্ণব ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান আচার্য স্বামী বেদান্ত দেশিকার মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গরুড় যেভাবে পরমেশ্বরকে বহন করেন, দেশিকার মতো আচার্যরাও তেমনি বেদের জ্ঞান প্রচার করে মানুষকে সংসারবন্ধন থেকে মুক্তি দেন। গরুড়কে 'বেদাত্মা' বা বেদের আত্মা হিসেবে পূজা করা হয়, যেখানে তাঁর দুটি ডানা বৈদিক ছন্দ ও মন্ত্রের প্রতীক।
স্বামী বেদান্ত দেশিকা তাঁর গুরু কিদম্বি আপ্পুলারের কাছ থেকে গরুড় মন্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিরেুভেহেন্দ্রপুরমের ঔষধিগিরিতে ধ্যান করার সময় গরুড় তাঁর সামনে আবির্ভূত হন এবং তাঁকে পবিত্র হায়গ্রীব মন্ত্র প্রদান করেন। এই দিব্য আশীর্বাদেই দেশিকা সংস্কৃত, প্রাকৃত এবং তামিল ভাষায় অসাধারণ কাব্যিক রচনা করতে সক্ষম হন।
গরুড়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেশিকা 'গরুড় দণ্ডকম' রচনা করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দণ্ডকম পাঠ করলে বিষ, সাপের কামড় এবং ক্ষতিকারক শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি ভয় ও উদ্বেগ দূর করে মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি প্রদান করে।