স্পেনের উত্তর আফ্রিকান এনক্লেভ সেউতায় ৫০,০০০-এর বেশি অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পেছনে মরক্কোর ভূমিকা এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় সম্প্রতি ৫০,০০০-এর বেশি অভিবাসী সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে এক বিশাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যদিও স্পেন জানিয়েছে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং অনেকেই স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন, তবুও এই আকস্মিক গণ-প্রবেশের কারণ নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। সমুদ্রপথে এবং ছোট নৌকায় করে আসা এই অভিবাসীদের প্রচেষ্টায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার পেছনে বিভিন্ন কারণ দেখছেন। কেউ স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করছেন, যা সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে মানব পাচারকারী চক্রের একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে অনেকের ধারণা, মরক্কো এই সীমান্ত লঙ্ঘনে ভূমিকা পালন করেছে, যা স্পেন ও মরক্কোর দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনেরই অংশ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো এই সংকটের সাথে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংযোগ। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান এবং গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার কারণে ইসরায়েলের সাথে তার সম্পর্ক শীতল। পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, মরক্কোর এই পদক্ষেপের পেছনে ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তির প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকতে পারে, যা স্পেনের পররাষ্ট্রনীতিকে চাপে ফেলতে চাইছে।