সৌদি আরব এবং তুরস্কের সাথে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই জোটটি ন্যাটোর আদলে তৈরি এবং এটি ভারতের কৌশলগত অবস্থানের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক সম্প্রতি 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে, যা মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার পরিবর্তে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয়। এই চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর সম্মিলিত নিরাপত্তা ধারা, যেখানে কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এটি অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো কাজ করবে।
এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তান তার পারমাণবিক ও সামরিক শক্তি, সৌদি আরব তার আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং তুরস্ক তার উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্পকে একত্রিত করছে। যদিও পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করে আসছে, তবে এই নতুন জোটটি ইরান ও ইসরায়েলের মতো শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। লাদাখ সীমান্ত থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিবর্তন এবং সামরিক ভারসাম্যের বিবর্তন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের এই নতুন পদক্ষেপটি ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলেও, এটি সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।