মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি এবং 'ফ্লেক্সিবল রিয়ালিজম'-এর কারণে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি বদলে যাচ্ছে। এখন শুধু চীন মোকাবিলা নয়, বরং পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই হবে এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি এবং পরিবর্তিত বৈদেশিক নীতি নির্দেশ করে যে, আমেরিকা এখন কৌশলগত মিলের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। 'ফ্লেক্সিবল রিয়ালিজম' বা নমনীয় বাস্তববাদের এই যুগে, অংশীদারিত্বের মূল্যায়ন হবে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত অবদানের ভিত্তিতে।
গত এক দশক ধরে চীনকে মোকাবিলা করার জন্য ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এখন সম্পর্কের ভিত্তি হবে 'কৌশলগত পরিপূরকতা'। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারত কী অবদান রাখতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এমন সক্ষমতা তৈরি করা যা তাকে আমেরিকার কাছে অপরিহার্য করে তুলবে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে ভারত যদি নিজের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে, তবেই এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।