বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) নালসার (NALSAR) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করে তাদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। মূলত একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) সম্প্রতি একটি গুরুতর বিতর্কের মুখে পড়েছে। গত ১৩ আগস্ট, বিসিআই চেয়ারম্যানের লেটারহেডে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ভারতের সমস্ত রাজ্য বার কাউন্সিলকে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়, যেখানে ২০২৬ সালের স্নাতক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ ছিল মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তাদের একটি অভ্যন্তরীণ মতামত।
যদিও ব্যাপক জনরোষের মুখে বিসিআই পরে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়, তবে এই ঘটনাটি বিসিআই-এর ক্ষমতার সীমা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট, ১৯৬১ অনুযায়ী, বিসিআই-এর ক্ষমতা অত্যন্ত নির্দিষ্ট এবং সীমিত। কোনো শিক্ষার্থী কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া থেকে আটকানোর আইনি ভিত্তি বিসিআই-এর কাছে নেই। এমনকি সুপ্রিম কোর্টও ১৯৯৫ সালে রায় দিয়েছিল যে, বিসিআই-এর নিয়ম তৈরির ক্ষমতা এনরোলমেন্ট-পূর্ব স্তরে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নয়।
এই ঘটনাটি আইনি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের ওপর আঘাত হানে। একটি শক্তিশালী আইনি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে এবং ক্ষমতার কাছে সত্য বলতে শেখায়, কেবল অনুগত আইনজীবী তৈরি করা নয়। বিসিআই-এর এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইনি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।