যন্তর মন্তরে ব্যঙ্গ এবং অবাধ্যতা প্রধানমন্ত্রীর অপরাজেয় ভাবমূর্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে। তরুণদের এই ক্ষোভ সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর দিকেই নির্দেশিত ছিল।

নীট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম এবং বিচার বিভাগের সংবেদনহীন মন্তব্যের জেরে ভারতে সাম্প্রতিক যুব আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। যদিও এই প্রতিবাদের ফলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণদের ক্ষোভের আসল লক্ষ্য ছিলেন খোদ মোদী। কোনো সুপরিকল্পিত ব্যানার বা বড় সংগঠনের সাহায্য ছাড়াই, তরুণরা হাতে লেখা পোস্টার এবং তীব্র ব্যঙ্গের মাধ্যমে সরকারের তৈরি করা অপরাজেয় ভাবমূর্তি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে প্রতীকীভাবে "ককরোচ জনতা পার্টি" (সিজেপি) গঠন করে তরুণরা তাদের ক্ষোভ উগরে দেয়। এই আন্দোলন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি ছিল শাসন ব্যবস্থার সামগ্রিক জবাবদিহিতা চাওয়ার লড়াই। মূলধারার সংবাদমাধ্যম যখন এই তরুণদের সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করছিল, তখন তারা স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে নিজেদের প্রতিবাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়। এই ঐতিহাসিক বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে ভারতের যুবসমাজ রাজনৈতিকভাবে উদাসীন নয়, বরং তারা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।