প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরাইশি লিখেছেন যে নির্বাচন কমিশনের আসল পরীক্ষা কেবল নির্বাচন পরিচালনা নয়, বরং পরাজিত পক্ষ বা বিরোধী দলের আস্থা অর্জন করা। শাসক দল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন বোধ করে, আর বিরোধী দলের প্রয়োজন আশ্বাস।
নির্বাচন কমিশনকে দুটি মাপকাঠিতে বিচার করা হয়: প্রথমটি হলো কত দক্ষতার সাথে তারা নির্বাচন পরিচালনা করে এবং দ্বিতীয়টি হলো যারা নির্বাচনে পরাজিত হয় তাদের মধ্যে তারা কতটা আস্থা তৈরি করতে পারে। শাসকের প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধীদের প্রয়োজন আশ্বাস। নির্বাচন কমিশনকে এই উভয়টিই নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবিধানিক দর্শন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে শাসন বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে। যখন একজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হন, তিনি সরকারের অনুগত না থেকে কেবলমাত্র সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকেন। শাসক দলের কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সম্পদ থাকে, তাই বিরোধীদের জন্য একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কুরাইশি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান যে, বিরোধীদের অভিযোগ বা অনুরোধ গুরুত্ব সহকারে শোনা অত্যন্ত জরুরি। এটি কোনো পক্ষপাতিত্ব নয়, বরং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি এই জনবিশ্বাসই ভারতের গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি।