দেশভাগের বিভীষিকা এবং শিকড় হারানোর যন্ত্রণা আজও পাঞ্জাবের মানুষের মনে গেঁথে আছে। শহীদ অজিত সিংয়ের প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এখন পাঞ্জাবের প্রয়োজন কৃষি ও ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
দেশভাগের যন্ত্রণা পাঞ্জাবের প্রতিটি পরিবারের হৃদয়ে আজও বিদ্যমান। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট একদিকে যেমন স্বাধীনতা এসেছিল, অন্যদিকে পাঞ্জাব বিভক্ত হয়ে কোটি কোটি মানুষকে তাদের ভিটেমাটি ও সম্পদ হারাতে হয়েছিল। শহীদ ভগত সিংয়ের কাকা অজিত সিং, যিনি কৃষকদের অধিকার রক্ষার জন্য 'পাগদি সাম্ভল জাট্টা' আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি ঠিক স্বাধীনতার দিনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দেশভাগের ফলে বহু মানুষ রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং অনেক পরিবার তাদের সাজানো জীবন হারিয়েছিল। তবে সেই ট্রমার মধ্যেও পাঞ্জাবের মানুষ আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কৃষি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তারা নতুন করে জীবন গড়ে তুলেছিল। সেই লড়াইয়ের চেতনা আজও পাঞ্জাবের কৃষকদের মধ্যে বিদ্যমান, যা সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলনগুলোতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
আজ পাঞ্জাবের প্রয়োজন একটি নতুন বিপ্লব। এই বিপ্লব কোনো বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। অজিত সিংয়ের সেই প্রতিরোধের আদর্শকে কাজে লাগিয়ে পাঞ্জাবকে একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়াই এখন সময়ের দাবি।