রাজস্থানের পঞ্চায়েত নির্বাচনে আসন সংরক্ষণ এবং আসন আবর্তনের নতুন নিয়মের কারণে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে। নাগৌর, জয়সলমের এবং সিকারের মতো জেলাগুলোতে প্রথাগতভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বসাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রভাবশালী নেতা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলি।
রাজস্থানের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ আসনগুলির জন্য প্রবর্তিত লটারি ব্যবস্থা এবং আসন সংরক্ষণের নতুন নীতি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগৌর, জয়সলমের এবং সিকারের মতো জেলাগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক পরিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। ২০২০ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২০টি জেলা প্রধানের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন রাজনৈতিক পরিবারগুলোর সদস্য। অনেক নেতা তাদের স্ত্রী, কন্যা বা পুত্রবধূদের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজেদের দলের বিরুদ্ধেও গিয়ে লড়াই করেছেন।
তবে এবারের আসন পরিবর্তন রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। নাগৌরে বর্তমানে তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসন হওয়ায় মির্ধা ও বেনিওয়াল সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী জাট নেতাদের পরিকল্পনা বদলে দিতে হচ্ছে। একইভাবে, জয়সলমারে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এসটি (ST) আসন সংরক্ষিত হওয়ায় গাজি ফকির পরিবারের মতো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো সংকটে পড়েছে। সিকারে ওবিসি নারী সংরক্ষিত আসনের কারণে প্রবীণ বিজেপি নেতাদের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে প্রভাবশালী নেতারা এখন এমন কাউকে খুঁজছেন যারা তাদের শর্ত মেনে চলতে পারবেন। বানসওয়ারার মতো জেলাতেও রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন সংরক্ষণের এই নতুন কৌশলের ফলে রাজস্থানের গ্রামীণ রাজনীতির চিরাচরিত কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।