মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ১০,০০০ আখ চাষির ওপর চালানো একটি পাইলট প্রকল্পে আখের ফলন দ্বিগুণ হয়েছে এবং জলের ব্যবহার প্রায় ৫০% হ্রাস পেয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মাইক্রোসফটের সহায়তায় তৈরি এই 'টাইনি এআই' (Tiny AI) প্রযুক্তিটি সাধারণ ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ পাঠায়। রোমে রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সম্মেলনে এই প্রকল্পটিকে বিশ্বমানের চেয়েও উন্নত বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতি তালুকে কৃষি ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটে গেছে। ১০,০০০টি আখ খামারে চালানো একটি পরীক্ষামূলক项目中 আখের ফলন দ্বিগুণ করার পাশাপাশি জলের ব্যবহার ৫০ শতাংশ এবং সারের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। রোমে রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একটি সম্মেলনে এই প্রকল্পটিকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের চেয়েও "উন্নত" বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে কৃষি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।
আমেরিকা বা ব্রাজিলের মতো বড় খামারের পরিবর্তে ভারতের ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত জমির উপযোগী করে এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট (ADT) বারামতি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইক্রোসফটের যৌথ উদ্যোগে এই 'টাইনি এআই' (Tiny AI) প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এটি অত্যন্ত কম ব্যান্ডউইথ এবং সাধারণ স্মার্টফোনে কেবল এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে কাজ করে। একটি হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেলের মাধ্যমে আবহাওয়া কেন্দ্র ও মাটির সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের নিজস্ব ভাষায় সরাসরি পরামর্শ পাঠানো হয়।
এই প্রযুক্তির মূল সাফল্য এসেছে প্রথাগত ক্যালেন্ডার ভিত্তিক সেচের বদলে ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী জল দেওয়ার মাধ্যমে। বর্তমানে এই মডেলটি আখ ছাড়াও কলা, হলুদ, আঙুর এবং তুলোর মতো ফসলে এবং উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মতো অন্যান্য রাজ্যেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের কৃষকদের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক ডেটা-চালিত প্রযুক্তির মেলবন্ধন চাষবাসকে আরও টেকসই করে তুলতে পারে।