বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এই বছরের এল নিনো ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটবে। এর প্রভাব আগামী ২০২৬ সালের শেষভাগ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জলবায়ু গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থ-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ বছরের এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা গত ১৫০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার ৯০% আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যাবে। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং উত্তরাঞ্চলে মৃদু তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই শক্তিশালী জলবায়ু প্যাটার্নের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়বে। যেমন, আমেরিকার দক্ষিণ ও উপসাগরীয় উপকূলে শীতকালে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঠান্ডা থাকবে, অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভেজা আবহাওয়া বিরাজ করবে। তবে উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তুষারপাত কম হতে পারে এবং আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই এল নিনোর তীব্রতা ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮১%। এর ফলে আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বৈশ্বিক আবহাওয়া মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।