ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নৌচলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৩তম রাতেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসগুলো নাগরিকদের সতর্ক করেছে এবং এলাকা ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছে।

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যা বর্তমানে ইরানের হামলার কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তেলের দাম উর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলা করতে এবং প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইরানের নৌঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

এই যুদ্ধের ফলে মানবিক বিপর্যয়ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩,৪৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে প্রায় ৪০০টি জাহাজে ৬,০০০ নাবিক আটকা পড়ে আছেন, যাদের খাদ্য ও চিকিৎসার চরম সংকট রয়েছে।