বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্য ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন। ডলারের এই পতন ভারতের আমদানি, রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের আধিপত্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০০০ সালে ডলারের অংশীদারি ছিল ৭১%, যা ২০২৬ সালে এসে ৫৬%-এ নেমে এসেছে। ডলার ইনডেক্স (DXY) গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ডলারের পরিবর্তে সোনা বা অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগের প্রবণতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সউদি আরবের পেট্রোডলার ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিভিন্ন দেশ ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে শুরু করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ডলারের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হঠাৎ কোনো পতন নয়, বরং একটি ধীরগতির পরিবর্তন যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির দ্বিমুখী প্রভাব রয়েছে। ডলারের মান কমলে ভারত সস্তায় অপরিশোধিত তেল ও ইলেকট্রনিক্স আমদানি করতে পারবে, যা মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে। তবে অন্যদিকে, ভারতীয় রপ্তানি পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দামি হয়ে উঠতে পারে এবং ভারতের বিশাল ডলার রিজার্ভের মূল্য রুবির তুলনায় কমে যেতে পারে।