আইভিএফ (IVF) প্রযুক্তির বিকাশে জিন পার্ডির অবদান অপরিসীম হলেও দীর্ঘকাল তিনি অবহেলিত ছিলেন। তিনি প্রথম মানব ব্লাস্টোসিস্টের গঠন শনাক্ত করেছিলেন এবং বিশ্বের প্রথম আইভিএফ ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

লুইজ জয় ব্রাউন যখন বিশ্বের প্রথম আইভিএফ শিশু হিসেবে পরিচিতি পান, তখন সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে থাকা জিন পার্ডির নাম অনেকের কাছেই অজানা। একজন ক্লিনিকাল এমব্রায়োলজিস্ট হিসেবে পার্ডি রবার্ট এডওয়ার্ডস এবং প্যাট্রিক স্টেপটো-র টিমে অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। তিনি ল্যাবরেটরি পরিচালনা থেকে শুরু করে কালচার মিডিয়া তৈরি এবং ডেটা অর্গানাইজ করা পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।

পার্ডির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মানব ব্লাস্টোসিস্টের গঠন প্রথম শনাক্ত ও বর্ণনা করা, যা ভ্রূণের বিকাশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি কেবল গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং রোগীদের যত্ন এবং আইভিএফ চিকিৎসার মানক প্রোটোকল তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে লুইজ ব্রাউনের জন্মের আগে তিনি প্রথম সফলভাবে ভ্রূণ কোষের বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

১৯৮৫ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগে তিনি বোর্ন হল ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন। দীর্ঘকাল ধরে 'ম্যাথিল্ডা ইফেক্ট'-এর শিকার হয়ে তার অবদান অবহেলিত থাকলেও, সাম্প্রতিক গবেষণায় তার কাজের গুরুত্ব নতুন করে স্বীকৃত হচ্ছে। তার পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আইভিএফ প্রকল্প সফল হওয়া কঠিন ছিল।