ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। যুদ্ধের মূল কারণ ইসরায়েল হলেও, যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির বোঝা মূলত ইরান ও তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর পড়ছে।
গত পাঁচ মাসের যুদ্ধ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে পক্ষ এই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে, তারাই যুদ্ধের সরাসরি আঘাত থেকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত। যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে, সেখানে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জ নতুন রেকর্ড গড়ছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন করছে।
ইরানের চার দশকের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তার হিজবুল্লাহ বা হুথিদের মতো মিত্রদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে, ইরান তার প্রতিপক্ষকে আঘাত করার বদলে উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে পারে। ফলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনীতি কার্যত অটুট রয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবেও ইসরায়েল যুদ্ধের সুবিধা ভোগ করছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ইসরায়েলি শেকেল মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ববাজার এই যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি হিসেবে নয়, বরং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।