১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন তার ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, তবে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান অভিবাসন বিরোধী মনোভাব এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশন প্রণয়ন করেছিল। বর্তমানে ১৪৯টি দেশ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তবে সিরিয়ার যুদ্ধ, সুদান এবং ইউক্রেনের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪১ মিলিয়নেরও বেশি শরণার্থী রয়েছে।
কনভেনশনের মূল ভিত্তি হলো 'নন-রিফউলেমেন্ট' নীতি, যা অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশগুলো কঠোর ও শাস্তিমূলক নীতি গ্রহণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের সমুদ্রপথে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসিত করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি এবং বিভিন্ন দেশের কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এই কনভেনশনের মূল চেতনাকে অবহেলা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কার্যকর প্রয়োগকারী সংস্থা বা আদালতের অভাব থাকায় অনেক দেশ নিজেদের স্বার্থে এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে, যা বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষার জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছে।