ভারতকে একটি প্রকৃত মেধাভিত্তিক সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের অদৃশ্য সামাজিক নিয়ম বা 'কোড'গুলিকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রতিভা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।

ভারত যদি প্রকৃত অর্থে একটি মেধাভিত্তিক সমাজ হতে চায়, তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখা উচিত। বর্তমানে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রগুলোতে বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার বদলে অনেক সময় একটি অদৃশ্য সামাজিক কোড বা আচরণের মানদণ্ড কাজ করে। ভাষা, উচ্চারণ বা কথা বলার ধরন অনেক সময় প্রকৃত মেধার বদলে সামাজিক অবস্থানের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

উদাহরণস্বরূপ, একই মেধার দুটি শিশু যখন একটি নামী স্কুলে প্রবেশ করে, তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রস্তুতির পার্থক্য থাকতে পারে। কেউ হয়তো পারিবারিক পরিবেশ থেকে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বা বিশেষ শব্দভাণ্ডার শিখে এসেছে, যা তাকে প্রতিষ্ঠানের কাছে 'যোগ্য' হিসেবে উপস্থাপন করে। অন্যদিকে, মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক কোডগুলো না জানলে তারা নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে সংশয়ে পড়তে পারে।

প্রকৃত মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কঠোরতা এবং সামাজিক আচরণের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। একটি কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেবল আত্মবিশ্বাসী বা নির্দিষ্ট উচ্চারণে কথা বলা মানুষের ওপর নির্ভর না করে, প্রকৃত দক্ষতা ও মেধাকে মূল্যায়ন করা উচিত। বৈচিত্র্য মানে কেবল সংখ্যা নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বরকে গ্রহণ করার ক্ষমতা।