পদ্মপ্রিয়া জানাকীরামন স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নারীদের অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে প্রকৃত স্বাধীনতা নারীদের জন্য কতটা অর্জিত হয়েছে।
১৯৪৭ সালে জওহরলাল নেহরু ভারতের মর্যাদা ও সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সত্তরেরও বেশি বছর পর প্রশ্ন জাগে, ভারতীয় নারীরা সেই প্রতিশ্রুতির কতটা অংশ পেয়েছেন? সমাজ নারীদের শেখায় কীভাবে শান্ত থাকতে হয় এবং কীভাবে নিজেকে সংকুচিত করতে হয়। STEM শিক্ষায় নারীরা এগিয়ে থাকলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। বিনোদন জগৎ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম—সবখানেই নেতৃত্বের পদে পুরুষের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো।
নারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রায়ই 'কঠিন' বা 'আবেগপ্রবণ' বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। যখন একজন নারী প্রতিকূলতা সহ্য করেন, তখন তাকে 'সহনশীল' বলে প্রশংসা করা হয়, কিন্তু কেন তাকে এত প্রতিকূলতা সহ্য করতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নটি তোলা হয় না। আইনি ব্যবস্থা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও নারীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তাদের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে বিচার করে।
লেখিকা তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন যে, স্বাধীনতা মানে হলো কোনো উপদেশ ছাড়াই একজন পুরুষের মতো রাতে বাড়ি ফেরা, ঘরের অবৈতনিক কাজকে ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয় বরং কাজ হিসেবে গণ্য করা এবং প্রথমবার কথা বললেই বিশ্বাস করা। তার এক বছর বয়সী মেয়ের জন্য তিনি এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখছেন যেখানে মর্যাদা পেতে হলে অসাধারণ হওয়ার প্রয়োজন হবে না।