AI কোম্পানিগুলো মেশিন লার্নিংয়ের জন্য বইগুলোকে ডিজিটাইজ করার পর তা ধ্বংস করছে, যা বই পড়ার সামাজিক ও বৌদ্ধিক অভিজ্ঞতাকে বদলে দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় বই কেবল তথ্যের একটি উৎস হয়ে পড়ছে, যা পাঠকদের নিজস্ব চিন্তার স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

সম্প্রতি রিপোর্ট করা হয়েছে যে, অ্যানথ্রপিকের মতো AI কোম্পানিগুলো মেশিন লার্নিংয়ের জন্য হাজার হাজার বইয়ের বিষয়বস্তু ডিজিটাইজ করার পর সেই বইগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ফলে বই এখন আর পড়ার বিষয় হিসেবে নয়, বরং কেবল তথ্য আহরণ করার একটি পাত্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যখন কোনো টেক্সট ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়, তখন তার ভৌত অস্তিত্বকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হতে পারে।

একজন পাঠক যখন একটি বই পড়েন, তখন তিনি কেবল তথ্য পান না, বরং লেখকের যুক্তির সাথে তর্কে লিপ্ত হন এবং নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে তা বিচার করেন। কিন্তু AI লক্ষ লক্ষ বই থেকে চোখের পলকে শব্দ ও প্যাটার্ন সংগ্রহ করতে পারে। অ্যানথ্রপিকের 'প্রজেক্ট পানামা'-র মতো উদ্যোগগুলো বইয়ের জ্ঞানকে পরিসংখ্যানগত স্মৃতিতে রূপান্তরিত করে ফেলে, যেখানে ভাষা ও জ্ঞান কেবল মেশিন-জেনারেটেড উত্তরের একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

বইয়ের এই রূপান্তর আমাদের সামাজিক জ্ঞানচর্চার কাঠামোকে বদলে দিচ্ছে। লাইব্রেরি বা বইয়ের পাতায় ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে এখন ব্যবহারকারীরা সরাসরি একটি সাজানো উত্তর পেয়ে যাচ্ছেন। এতে তথ্যের সহজলভ্যতা বাড়লেও, সেই তথ্যের পেছনের বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য এবং পাঠকদের নিজস্ব চিন্তাশীলতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।